দেশের বিদ্যমান কর কাঠামোতে বহুমাত্রিক ও স্তরে স্তরে কর আরোপের পদ্ধতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে একটি যৌক্তিক ও একক স্তরে নির্দিষ্ট কর হার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। রোববার রাজধানীর বনানীতে গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট–কাঠামো যৌক্তিকীকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে।
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সরকার বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিলেও বর্তমান কর ব্যবস্থা বিনিয়োগবান্ধব নয়। বিশেষ করে পানীয় খাতের ওপর দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ ৪৩.৭৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতে ৪০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে মাত্র ৩০ শতাংশ। বক্তারা জানান, উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের দ্বৈত অবস্থান শিল্পের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাকির আহমেদ খান বলেন, করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা এখন সময়ের দাবি। করের হার না বাড়িয়ে আদায় প্রক্রিয়া জোরদার করলে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিদ্যমান কর কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস–এর সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ এনবিআরের প্রশাসনিক অদক্ষতার সমালোচনা করে বলেন, সরাসরি কর আদায়ে ব্যর্থতা ঢাকতে সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এছাড়া কর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি এবং করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় সুসংহত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা কাটাতে কর কাঠামো সংস্কার ও একক স্তরে কর নির্ধারণের দাবি বিশেষজ্ঞদের। পানীয় খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ কর আরোপের বিষয়টিতে উদ্বেগ জানানো হয়েছে এক কর্মশালায়।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments