তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে আমরা নীতিগতভাবে একমত, তবে গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবে একদিকে সরকার ও বিরোধী দলের ১০ সদস্য ও অন্যান্য দলের ২ জন থাকলেও, আমরা চাই—এই প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত না এলে সর্বশেষে সংসদে আলোচনা হোক, তাতে নাগরিক মতামত ও সেমিনারের জায়গা থাকুক। যদি সমাধান না হয়, তাহলে ১৩তম সংশোধনীর রূপেই ফিরতে প্রস্তুত বিএনপি। তবে সে ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষপাতী তারা।
চারটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে (যেমন নির্বাচন কমিশন) নিয়োগ নির্বাহী আইনে করতে চায় বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান ভারী না করে বরং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু রাখতে চাই আমরা। সংবিধান সংশোধনের ধকল এড়াতে আইন প্রণয়নেই সমাধান খোঁজার প্রস্তাব দেন তিনি। এতে এক সংস্থা আরেকটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মত দেন বিএনপি নেতা।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের পক্ষে এবং ১০০ আসনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তা আনুপাতিক হারে আগের মতোই হওয়া উচিত। সরাসরি নির্বাচনের পক্ষেও মত থাকলেও দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথমে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫% ও পরে ১০% নারী মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ ও ২০০৫ সালে ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার জাতীয় সনদে ন্যায়পাল যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে বিএনপি—এর জন্য আলাদা আইন, সচিবালয় ও কাঠামো গঠনের তাগিদও দেন তিনি।
জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, এতে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে বিএনপি একমত। যদি ভাষাগত সংশোধন প্রয়োজন হয়, তারা তা দেবে। দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন নিয়েও তারা সহমত পোষণ করেছে।
সর্বশেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেউ ১০ বছরের বেশি থাকবেন না—এটাই বিএনপির প্রথম প্রস্তাব। অতএব, বিএনপি সবকিছুতেই দ্বিমত জানায়—এ কথা সঠিক নয়। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, এলডিপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
0 Comments