সোমবার রাতে ঢাকার নাখালপাড়ায় রিয়াদের বাসায় অভিযান চালানো হয়, যা চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। অভিযানে উদ্ধার হয় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক, যা আগামী মাসের ২ তারিখে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া প্রায় ২০ লাখ টাকার এফডিআর সংক্রান্ত কাগজপত্রও উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্ঝরের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলশানের একজন আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীর জমি উদ্ধারে রিয়াদের সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়। তারই অংশ হিসেবে এই চেক লেনদেনের বিষয়টি উঠে আসে।
অভিযানে আরও জানা যায়, রিয়াদের একটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত কয়েক মাসে ৬০-৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। রিয়াদের ঘর থেকে অন্তত ১০টি এফডিআরের নথি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা করে রাখা আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই গুলশান-২ নম্বরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাড়িতে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে পাঁচজন আটক হন। ওই ঘটনায় গুলশান থানায় করা মামলায় রিয়াদসহ গ্রেপ্তার হন কাজী গৌরব অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর।
মামলার ভিত্তিতে রিয়াদসহ চারজনের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। কিশোর অভিযুক্তকে পাঠানো হয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।
এদিকে ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং নেতাকর্মীদের ওই তিনজনের সঙ্গে সকল সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।
এক সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে আলোচিত রিয়াদ ও তার সহযোগীদের এই ধরনের অভিযোগ ও প্রমাণ আগামী দিনে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
0 Comments