বিদেশে পাঠানোর নামে দেড় কোটি টাকা প্রতারণা, ভৈরবে চাঞ্চল্য

সিবি ডেক্স: বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া টিকিট প্রদান এবং নেপাল ও মালয়েশিয়ায় নিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরবের দুর্জয় মোড়স্থ শামীম অ্যাড ফার্ম অ্যান্ড মিডিয়া হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন।

অভিযুক্তরা হলেন— ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার মেহেদী হাসান, গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার গারলগাতি গ্রামের জনি মোল্লা, ফরিদপুরের বিল গবেন্দপুর গ্রামের লিখন তালুকদার, নরসিংদীর ব্রাহ্মণপাড়ার নাইবুর রহমান এবং তার ভাগিনী জামাই বশির আহমেদ নয়ন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভৈরব নিউ টাউনে অবস্থিত “আল ওয়াসী ভিসা ইন লিমিটেড” এবং “এমপিআর গার্ড সিকোরিটি সার্ভিস লিমিটেড” নাম ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতান মাহমুদপুর এলাকার শ্রাবণ, কামাল, নাঈমসহ আরও অনেকে রয়েছেন। ভুক্তভোগী তোসি আহমেদ জানান, এই চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১২ জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুন পাভেল, নিপেল, নুরুন নবী, হাবিবুর রহমান, কামাল ও শ্রাবণসহ ৬ জনকে আলবেনিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ জুন ফ্লাইট দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়নি। নেপালে অবস্থানকালে খাবারের সঙ্গে অচেতন করার ওষুধ মিশিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬ হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এছাড়া সাইদুর রহমানকে স্পেন পাঠানোর নামে ভুয়া টিকিট দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় এবং শফিকুজ্জামান হিরাজকে ফ্রান্স পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। দিপু ও নাঈমের কাছ থেকেও সার্ভিয়ায় পাঠানোর নামে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, তার পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ১২ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অফিস গুটিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের রেখে প্রতারকদের খোঁজে ঘুরেও তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দ্রুত প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে এমন প্রতারণা রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশার মুখে পড়ছে।

Post a Comment

0 Comments