১৯ দিনে হামের উপসর্গে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৭৯২

সিবি ডেক্স: দেশে গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত হামের কারণে ৯ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ৭১১ জন শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩১৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭টি শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জন ঢাকা বিভাগের। এ সময় ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এছাড়া খুলনা ও সিলেট বিভাগে ৫ জন করে এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫°F), চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা ৪ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়।

এ রোগের সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ হলো ত্বকে লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ, যা সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে শুরু হয়ে প্রথমে মুখ ও গলায় দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। র‍্যাশ ৫ থেকে ৬ দিন স্থায়ী হওয়ার পর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

অধিকাংশ আক্রান্ত রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং শরীরে আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, ফলে দ্বিতীয়বার হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হাম ভাইরাস সংক্রমণের পর মানবদেহ হিমাগ্লুটিনিন (H) প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

Post a Comment

0 Comments