ভূমি দস্যুতার অভিযোগে কক্সবাজারের বেলায়ত কারাগারে

ভূমি দস্যুতা, প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে কক্সবাজার সদরের কলাতলীর আলোচিত ব্যক্তি বেলায়ত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের দ্রুত বিচার আইনের আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন আসিফ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৩৫/২৬ নম্বর মামলার বাদী মেহেদী হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেলায়ত হোসেনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও দ্রুত বিচার আইনে অন্তত নয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আদালতে আরও ডজনাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, পিবিআই-সংক্রান্ত একটি আত্মসাতের মামলায় কারাভোগের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বেলায়ত। সম্প্রতি তিনি তার ভাইসহ কয়েকজনকে নিয়ে মেহেদী হাসানের জমির দেয়াল ভেঙে দখলের চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগী আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন এলাকার ফাঁকা বা বিরোধপূর্ণ জমি টার্গেট করে বেলায়ত ও তার চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মামলা জটিলতা সৃষ্টি করে। এতে প্রকৃত মালিকরা হয়রানির শিকার হয়ে অনেক সময় আপস বা জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

আইনজীবীর দাবি, জমি দখলের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর কৌশল ব্যবহার করে এই চক্র। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এছাড়া ২০১৯ সালের কোভিড পরিস্থিতির সময় পিবিআইয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মহেশখালীর বাসিন্দা সিরাজ আহমদের ছেলে বেলায়ত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কলাতলী ও ঝিলংজা এলাকায় ‘ল্যান্ড লর্ড’ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দাবি, জমি কেনাবেচার তথ্য পেলেই বেলায়ত চক্র ভুয়া দলিল তৈরি করে মামলা দায়ের করে, ফলে প্রকৃত মালিকরা আইনি জটিলতায় পড়ে আপস করতে বাধ্য হন।

Post a Comment

0 Comments