কর্মচারী আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর আইন, সংসদে বিল পাস

সিবি ডেক্স: সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে শাস্তির আওতা বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

রোববার জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর উত্থাপিত ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিল পাসের সময় বিরোধী দল ভোটদানে বিরত থাকে এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। চলতি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম এই বিলটি পাসে সময় লেগেছে মাত্র ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ২০২৫ সালের মে ও জুলাই মাসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই অধ্যাদেশ দুই দফায় সংশোধন করে জারি করেছিল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

পাস হওয়া বিলে সরকারি কর্মচারীদের চার ধরনের কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনানুগত্যমূলক আচরণ বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ, যৌক্তিক কারণ ছাড়া একক বা সম্মিলিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অন্য কর্মচারীকে কাজে অনুপস্থিত থাকতে বা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে উসকানি দেওয়া এবং কর্মস্থলে উপস্থিতি বা দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা।

এই অপরাধগুলোর জন্য তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে—বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং বেতন ও পদের গ্রেড হ্রাস।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আইন কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির পরদিনই সচিবালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

Post a Comment

0 Comments