চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকী মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ও মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ এবং অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের কৃষ্ণ বিবর বইটি পড়ার মাধ্যমেই তার জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি স্থায়ী আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করলে চিন্তা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকী বলেন, বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে গাণিতিক জটিলতা এড়িয়ে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে কঠিন মনে করে দূরে সরে যায়। এই ভীতি দূর করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ক্লাব গঠন, বিজ্ঞান মেলা আয়োজন এবং সরাসরি আকাশ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তার মতে, টেলিস্কোপ দিয়ে গ্রহ-নক্ষত্র দেখার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অমল কুমার রায়চৌধুরীর মতো বিশ্বখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানীদের অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। রায়চৌধুরী ইকুয়েশন ব্যবহার করেই স্টিফেন হকিং তার সিঙ্গুলারিটি তত্ত্ব প্রমাণ করেছিলেন, যা অনেকেরই অজানা। শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকীর মতে, মহাকাশ বিজ্ঞান বা যেকোনো গবেষণায় সফল হতে হলে প্রচুর বই পড়া, অনুসন্ধিৎসু হওয়া এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান গবেষণাকে আরও গতিশীল করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ও মহাকাশ গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকী। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও অভিজ্ঞতার কথা জানুন।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments