Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্থান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্থান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে উত্তর আটলান্টিক জোট বা ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বার্লিনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এখন আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতি ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে পারেন অথবা অবহেলা ও উপেক্ষার মাধ্যমে জোটটিকে ভেতর থেকে অকার্যকর করে তুলতে পারেন। যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ন্যাটোতে ভাঙন দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা ও যৌথ প্রতিরক্ষা। কিন্তু ট্রাম্পের ‘মাগা’ দর্শনের কারণে এই আস্থায় ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রায় আট দশক ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রধান স্তম্ভ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি। আমেরিকার এই সামরিক ছায়াতলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন গড়ে উঠেছিল এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এসেছিল।

এখন ইউরোপকে একাই পথ চলার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সব দায়িত্ব এখন তাদের নিজেদের কাঁধেই নিতে হবে। ইতিহাস বলছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ থেকে সরে দাঁড়ানো জার্মানিতে হিটলারের উত্থান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ যদি আবার বিভক্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয়তাবাদের পথে ফিরে যায়, তবে তা পুরো বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই শূন্যস্থান পূরণে এখন জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোকে সামনে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংক্ষেপে:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পদক্ষেপে ন্যাটোতে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ছাড়া ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্লিনসহ বিভিন্ন দেশে এখন গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সূত্র: প্রথম আলো

Post a Comment

0 Comments