গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিন দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর তিনি ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে যোগদান করেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে খাবারের মান নিম্নমানের এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ওষুধ সরবরাহ তালিকা থাকলেও বাস্তবে সীমিত কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, ফলে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশু রোগীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইনজুরি সার্টিফিকেট দিতে বিলম্ব ও অর্থ আদায়, রোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো এবং হাসপাতালের স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। পাশাপাশি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে আরএমও পদে উন্নীত হন। ২০২১ সালে তার বদলির আদেশ হলেও তা পরে প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোয়ার্টারে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি সেখানে অবস্থান না করে অন্য স্থান থেকে যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার ইতি বলেন, তিনি মাঝে মধ্যে হাসপাতালে থাকেন এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, তিনি প্রথমে স্বল্পমেয়াদি ছুটি নিলেও পরে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়মবহির্ভূত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
0 Comments