ইসলামি জীবনদর্শনে পিতৃত্বকে একজন মানুষের ওপর অর্পিত বড় দায়িত্বের পাশাপাশি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার ও অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই সম্পর্ককে অন্যতম শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানাবিধ বৈষয়িক ও নৈতিক অধিকার।
আরবিতে ‘আব্ব’ বা পিতা শব্দের মূল অর্থ হলো প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং ইচ্ছা পোষণ করা। ভাষাগতভাবে এটি সন্তানের সুরক্ষা ও লালন-পালনের সদিচ্ছাকে নির্দেশ করে। এছাড়া ‘উবুয়্যাহ’ বা পিতৃত্ব শব্দটির মাধ্যমে কোনো কিছু থেকে বিরত রাখা বা বাধা দেওয়ার অর্থও পাওয়া যায়, যা মূলত সন্তানদের প্রতি পিতার সুরক্ষামূলক ঢালকে নির্দেশ করে।
পবিত্র কোরআনে পিতৃত্ব সম্পর্কিত শব্দগুলো একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন হিসেবে প্রায় ১১৭ বার এসেছে। সুরা ফুরকানে নেককার বান্দাদের দোয়ায় চক্ষু শীতলকারী সন্তান ও পরিবারের প্রার্থনা করা হয়েছে। আবার সুরা আহকাফে মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশের পাশাপাশি তাঁদের কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় যারা কোনো কিছুর সৃষ্টি, সংশোধন বা বিকাশের পেছনে কারণ হিসেবে থাকেন, তাঁদেরই পিতা বলা হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে পিতৃত্বের এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা সন্তানদের মনে পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মানসিক আনুগত্য তৈরি করে। সুরা ইউসুফ ও সুরা কাসাসে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইসলামে পিতৃত্ব কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত। পবিত্র কোরআনের আলোকে পিতার মর্যাদা, দায়িত্ব এবং এই সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments