উপজেলা পরিষদের ভেতরে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শনকক্ষ’ স্থাপনের উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনে ‘দ্বৈত নেতৃত্ব’ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের উদ্যোগ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে দুর্বল এবং জবাবদিহির ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপি কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে। এই দুই কাঠামোর মধ্যে স্পষ্ট পৃথকীকরণ গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। পরিষদের অভ্যন্তরে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস স্থাপন করা হলে প্রাতিষ্ঠানিক সীমারেখা নষ্ট হবে এবং নজরদারি নিরপেক্ষ না থেকে নিয়ন্ত্রণে রূপ নেবে। এতে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পরিষদের ভূমিকা প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিআইপির মতে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে, যা নাগরিক সেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতা এবং বাধার সৃষ্টি হতে পারে। সংগঠনটি জানায়, প্রায় সব রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কার্যকর স্থানীয় সরকার গঠনে বিআইপি বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের অফিস স্থানীয় সরকারের ভেতরে না রাখা, প্রয়োজনে স্বতন্ত্র কনস্টিটুয়েন্সি অফিস বা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংসদ সদস্যদের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায় না থাকা। এছাড়া পেশাদার পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ, উপজেলা পরিষদকে প্রকৃত স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং স্বতন্ত্র বাজেট ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজগুলো স্থানীয় সরকারের সঙ্গে জড়িত, যা সংসদ সদস্যদের মূল কাজ নয়। উপজেলা পরিষদে এসব কক্ষ স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে আরও বাড়তি সুবিধার প্রয়োজন হবে, যা প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি উপজেলায় এমন স্থাপনা নির্মাণ কতটা সম্ভব, তাও ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদে এমপিদের জন্য পরিদর্শনকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগে দ্বৈত নেতৃত্ব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিআইপি। এতে স্থানীয় সরকার দুর্বল ও জবাবদিহি ব্যাহত হতে পারে বলে জানানো হয়।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments