Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ কোটি টাকায় গণভোট ক্যাম্পেইনের দাবি, ব্যাখ্যায় রিফাত রশিদ

সিবি ডেক্স: গণভোট প্রচারণার অর্থায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ দাবি করেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে পরিচালিত সাত দিনের ক্যাম্পেইনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি টাকা প্রদান করেছিল।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ তছরুপের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

রিফাত রশিদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন, তবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোট প্রচারণার জন্য প্রথমে ১৫ দিনের একটি বড় ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যার সম্ভাব্য বাজেট ছিল পাঁচ কোটি টাকা। তবে সময়স্বল্পতার কারণে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সাত দিনের সীমিত ক্যাম্পেইন করা হয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি কোনো অনিবন্ধিত সংগঠনকে অর্থায়ন করতে পারে না বিধায় একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই ফাউন্ডেশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সিনথিয়া জাহিনও যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্বাক্ষর প্রদান করেছিলেন। পরে তিনি হঠাৎ করে প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন রিফাত। পরবর্তীতে তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশন নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

রিফাত দাবি করেন, নিবন্ধিত ওই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ব্যাংক সাত দিনের ক্যাম্পেইনের জন্য এক কোটি টাকা প্রদান করে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা পরিচালিত হয়।

অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ব্যয়ের হিসাব একটি অনুমোদিত অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি এবং সব প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কোনো তদন্ত সংস্থা অনুসন্ধান করলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিফাত রশিদ বলেন, পূর্ববর্তী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সংগঠন একটি ট্রানজিশনাল সংকটে পড়েছিল। পরে নতুন নেতৃত্ব ও উপদেষ্টা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থায়নের উৎস, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে রিফাত রশিদ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

Post a Comment

0 Comments