সিবি ডেক্স: গ্রীষ্মের তীব্র তাপে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন অনুকূলে থাকলেও মাছের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শুঁটকি শিল্প। ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় জেলার বেশিরভাগ শুঁটকিমহালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক এলাকায় প্রায় ৭০০টি শুঁটকিমহাল থাকলেও এর মধ্যে অন্তত ৬৫০টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আমদানি করা মাছ দিয়ে মাত্র ৫০-৬০টি মহালে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে। এতে কয়েকশ শ্রমিক কাজ পেলেও প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যাদের এক-তৃতীয়াংশ নারী।
স্থানীয়দের মতে, অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ মজুত রাখা হলেও এ বছর তা হয়নি। ফলে ভরা মৌসুমেও উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, প্রচণ্ড রোদ থাকা সত্ত্বেও মাছের অভাবে ৯০ শতাংশ মহাল বন্ধ রয়েছে এবং অল্পদিনের মধ্যে আমদানি করা মাছও শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
নাজিরারটেকের শ্রমিকদের বেশিরভাগই জলবায়ু উদ্বাস্তু। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে অনেকেই দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করে ৫০০ টাকা মজুরি পেলেও কাজের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। শ্রমিক মায়েশা বেগম বলেন, কাজ না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে সামছুন্নাহার নামের আরেক শ্রমিক জানান, স্বামীর অসুস্থতায় তার আয়েই সংসার চলে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।
কক্সবাজার শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত আট মাসে সাগরে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ভারত ও ওমানের আমদানি করা মাছ দিয়ে সীমিত উৎপাদন চলছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে শুঁটকির উৎপাদনও কমে আসছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শুঁটকির উৎপাদন হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি, যেখানে আগের অর্থবছরে মোট উৎপাদন ছিল ৪৮ হাজার ২৮৫ মেট্রিক টন।
এদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে শুঁটকির দাম বেড়েছে। কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন দোকানে প্রতি কেজি শুঁটকি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ দোকানে দেশীয় শুঁটকির পরিবর্তে পাকিস্তান, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা শুঁটকি বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে নামলে মাছের সরবরাহ বাড়বে এবং তখন শুঁটকির উৎপাদন ও দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।
0 Comments