এজাহারে ওমর ফারুক নিজেকে পেশায় মোটরসাইকেল মিস্ত্রি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ২০২১ সালে জান্নাতুল নাঈমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ফাইজা নামের সাড়ে ৪ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, তার প্রতিবেশী শহিদুজ্জামান টিকটক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত হয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তার স্ত্রীকে সতর্কও করেছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী বাসায় নেই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে শিশুকন্যাকে পাশের চাচির বাড়িতে পান। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শহিদুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পালিয়ে গেছেন।
তার দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়ির আলমারিতে থাকা নগদ ১ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং স্বর্ণের কানের দুল, চেইন ও নাকফুল নিয়ে যাওয়া হয়। এ স্বর্ণালংকারের আনুমানিক ওজন দেড় ভরি এবং বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, তিনি শহিদুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরে দুজনের পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এজাহারে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানালে তার স্ত্রীর পরিবার তাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়। একইভাবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারাও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে অভিযুক্তদের খোঁজাখুঁজি, অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন।
বাদীর ভাষ্য, বর্তমানে তিনি তার শিশুসন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
0 Comments