সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে পটিয়া পৌরসভার মুনসেফ বাজার এলাকায় অবস্থিত পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার জানান, তিনি পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে মো. লিটন ওরফে রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে নামজারি ও জমাখারিজের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং গ্রাহক ছাড়া অন্য কাউকে এ ধরনের কাজ করতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকেন। তবে অভিযুক্তরা উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতেন এবং কথা না শুনলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানির হুমকি দিতেন।
ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত লিটন ১৪টি নামজারি ও জমাখারিজের ফাইল নিয়ে অফিসে আসে। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কথাও বলেন।
এ সময় উপস্থিত ভুক্তভোগী ফাহিমা সুলতানা অভিযোগ করেন, লিটন নিজেকে এসিল্যান্ড অফিসের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে নামজারি ও জমাখারিজের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে অফিসে এসে তিনি জানতে পারেন অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে কর্মরত নন।
ঘটনার বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানানো হলে তিনি অভিযুক্তকে আটকের নির্দেশ দেন। পরে পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিটন ওরফে রোকন উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, ভুয়া পরিচয়ে সরকারি অফিসে দালালি ও প্রতারণার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা বলেন, সাধারণ মানুষ যেন দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অফিসে এসে সেবা গ্রহণ করেন। কেউ দালালের খপ্পরে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অফিস কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
0 Comments