যৌথবাহিনী সূত্র জানায়, কক্সবাজার অঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গুজব ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত একাধিক যৌথ অভিযানে নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনাকারী, চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন মামলার আসামিসহ প্রায় শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ড্রোন, ওয়াকিটকি, জাল নোট, ল্যাপটপসহ নাশকতা সৃষ্টিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। যৌথ অভিযানের ফলে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা কমে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সচেতন মহল ও জনমতের একটি অংশের অভিযোগ, যৌথবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া নাশকতার পরিকল্পনাকারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে হস্তান্তরের পর তারা স্বল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত টহল ও যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে যৌথবাহিনী। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সচেতন মহল এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
0 Comments