বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মোর্শেদা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের সেঞ্চুরি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে আসেন। পরদিন নির্ধারিত সময়ে কক্ষ না ছাড়ায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে কক্ষের দরজা খুলে বিপুলকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিপুলের সঙ্গে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করলেও মরদেহ উদ্ধারের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মোর্শেদাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদা বেগম নিজেকে বিপুলের দীর্ঘদিনের বান্ধবী বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, হোটেল কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের পর বিপুল অসুস্থ হয়ে মারা যান এবং তিনি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ঘুমের ওষুধ ও পানীয়র বোতল উদ্ধার করেছে।
এদিকে নিহতের স্ত্রী লিপি রানী পাল অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার নারী সঙ্গীকে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

0 Comments