কক্সবাজারে ‘সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা, রুখতে হবে এখনই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শনিবার পর্যটন শহরের সায়মন বিচ রিসোর্টে ব্র্যাক ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। দালালদের খপ্পরে পড়ে মানুষ জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মানোন্নয়নে কাজ চলছে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, শুধু আইন প্রয়োগ করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের ক্যাম্প ইনচার্জ ও উপসচিব সুরাইয়া আক্তার সুইটি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যেও সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কোস্টগার্ডের পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দালালদের নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান মূল প্রবন্ধে জানান, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে, যা দেশের জন্য বিব্রতকর। বৈঠকে ভুক্তভোগী অং অং উ জুয়েল ও তারেকুর রহমান তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি আস্ট্রিড ক্যাসেলিন, পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন, জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক লিটন কান্তি চৌধুরী, রামু টিটিসির অধ্যক্ষ মো. শাহ জালাল, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।
সমুদ্রপথে অবৈধ বিদেশযাত্রা বন্ধে কক্সবাজারে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রাণহানি ও নির্যাতন রুখতে সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

0 Comments