Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে স্থবির কক্সবাজার: পর্যটনে কোটি টাকার লোকসান ঠেকাতে জেনারেটর নয়, ‘আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজই’ একমাত্র মুক্তি!

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে স্থবির কক্সবাজার: পর্যটনে কোটি টাকার লোকসান ঠেকাতে জেনারেটর নয়, ‘আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজই’ একমাত্র মুক্তি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

দেশের প্রধান পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার বিগত কয়েক দিন ধরে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না এখানে। তীব্র গরমের সাথে এই নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক লোকসান গুনছেন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিকেরা। তীব্র গরমে একদিকে পর্যটকরা বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন, অন্যদিকে হোটেলগুলো সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের পেছনে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ডিজেল পুড়ছে।

​জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি আমাদের একটি চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে—গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর শতভাগ নির্ভরতা এবং বিকল্প হিসেবে শুধু ক্ষতিকারক ও ব্যয়বহুল ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করা এখন আর কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

​অনেকেই ভাবেন, এই সংকট থেকে বাঁচতে সোলার প্যানেল একমাত্র সমাধান; কিন্তু ছাদ বা জায়গার অভাবে শহরের বহুতল হোটেলগুলোর পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে আধুনিক প্রযুক্তি বলছে, সোলার প্যানেল না থাকলেও কেবল গ্রিডের বিদ্যুৎ (কারেন্ট) জমা রেখে চব্বিশ ঘণ্টা (২৪/৭) সেন্ট্রাল এসি, লিফটসহ ‘এ টু জেড’ সবকিছু চালানো সম্ভব। আর এই যুগান্তকারী সমাধান নিয়ে এসেছে বিশ্বখ্যাত ব্যাটারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘হিথিয়াম’ (Hithium)।

​সোলার ছাড়াই কারেন্ট জমা রেখে চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাকআপ

​হিথিয়াম বাংলাদেশের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার রেদোয়ান আহমেদ চৌধুরী জানান, হিথিয়ামের আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) মূলত একটি মেগা পাওয়ার ব্যাংক। এর জন্য সোলার প্যানেল থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা গ্রিডের বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, এই সিস্টেম সেই অল্প সময়ের মধ্যেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শতভাগ চার্জ হয়ে যায়।

​এরপর বাকি ১৭-১৮ ঘণ্টা কারেন্ট না থাকলেও এই জমানো বিদ্যুৎ দিয়ে একটি বহুতল হোটেলের সেন্ট্রাল এসি, চিলিং সিস্টেম, লিফট, পানির পাম্প, হেভি কিচেন ইকুইপমেন্ট এবং লাইট-ফ্যানসহ প্রতিটি বৈদ্যুতিক গ্যাজেট কোনো রকম বিরতি ছাড়াই চালানো সম্ভব।

​জেনারেটরের লোকসান বনাম হিথিয়ামে কোটি টাকার লাভ

​খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা বর্তমানে জেনারেটর চালাতে গিয়ে দ্বিগুণ লোকসানের শিকার হচ্ছেন। প্রথমত, চড়া মূল্যে ডিজেল কিনতে গিয়ে পরিচালন ব্যয় (Operating Cost) আকাশ ছুঁয়েছে। দ্বিতীয়ত, জেনারেটরের বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়ার কারণে বিরক্ত হয়ে পর্যটকরা হোটেল ছাড়ছেন।

​এখানেই হিথিয়াম BESS প্রযুক্তি এনে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা লাভের সুযোগ:

​ডিজেলের খরচ বাঁচবে ৯০% পর্যন্ত: জেনারেটরের পেছনে মাসে যে লাখ লাখ টাকা ডিজেল ও মোবিল খরচ হতো, হিথিয়াম প্রযুক্তিতে তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ফলে বছরের ব্যবধানে একটি বড় হোটেলের কোটি কোটি টাকা নেট প্রফিট বা লাভ হিসেবে পকেটে থাকবে।

​জিরো ডাউনটাইম ও ফ্লিকার-ফ্রি ব্যাকআপ: বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে এক মিলিসেকেন্ডের (১ চোখের পলক) মধ্যে এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ দেয়। ফলে এসি বা কম্পিউটারের আইটি সার্ভার একবারের জন্যও বন্ধ হবে না।

​শব্দহীন ও শান্ত পরিবেশ: কোনো শব্দ ও ধোঁয়া না থাকায় হোটেলের পরিবেশ থাকবে একদম শান্ত ও পরিবেশবান্ধব, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে বহুগুণ।

​রক্ষণাবেক্ষণ মুক্ত দীর্ঘায়ু: সাধারণ আইপিএস বা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির মতো ২-৩ বছর পর পর ব্যাটারি পরিবর্তন বা পানি দেওয়ার ঝামেলা নেই। হিথিয়ামের ব্যাটারিগুলো কোনো মেইনটেইন্যান্স ছাড়াই অনায়াসে ২৫ থেকে ৩০ বছর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেয়।

​‘পিক-শেইভিং’ প্রযুক্তিতে কমবে মূল বিদ্যুৎ বিল

​বিদ্যুৎ বিল কমানোর আরেকটি বড় হাতিয়ার হলো ‘পিক-শেইভিং’ (Peak-Shaving) পদ্ধতি। কক্সবাজারে যখন রাতে বা অফ-পিক আওয়ারের বিদ্যুতের দাম কম থাকে, তখন হিথিয়াম ব্যাটারি চার্জ হয়ে থাকবে। আর দিনের বেলা বা সন্ধ্যার পিক-আওয়ারে যখন বিদ্যুতের দাম ও লোডশেডিং দুটোই সর্বোচ্চ থাকে, তখন গ্রিডের বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ব্যাটারির জমানো বিদ্যুৎ দিয়ে পুরো হোটেল চালানো যাবে। এতে মাসের মূল বিদ্যুৎ বিল এক ধাক্কায় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমে যাবে।

​টেকসই পর্যটনের আহ্বান

​কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এবং ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। জেনারেটরের পেছনে প্রতিদিন টাকা অপচয় না করে, আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর ব্যবসাকে দেবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মানসিক শান্তি এবং বিপুল অর্থনৈতিক মুনাফা। হিথিয়ামের এই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির হাত ধরে কক্সবাজারকে একটি সবুজ, শান্ত ও জ্বালানি-নিরাপদ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

​যোগাযোগ ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য:

ইঞ্জিনিয়ার রেদোয়ান আহমেদ চৌধুরী

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট

হিথিয়াম বাংলাদেশ

মোবাইল: 01711994524

সংক্ষেপে:
কক্সবাজারে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে পর্যটন খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তিকে বিকল্প সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments