দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ ও স্মৃতিচিহ্নের সন্ধানে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েছে একটি জাপানি প্রতিনিধি দল। এই দলটি মূলত রামু ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রুমখা বড়বিল এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদের পাশে অবস্থিত ইসলাম মিয়ার বাড়ি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পাঁচটি বুলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রতিনিধি দলটিতে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির উপদেষ্টা মিসেস ওশিমা মুতসুকো, শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক মি. ফুটশি কোনো এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐতিহ্য গবেষণা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সবুজ বড়ুয়া। এছাড়াও তাদের সাথে ছিলেন লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট শিরুপন বড়ুয়া এবং অ্যাডভোকেট সুমথ বড়ুয়া।
অনুসন্ধান চলাকালে দলটি রামুর ফতেখাঁরকুলের লম্বরী পাড়া, রাজারকুলের চৌকিদার পাড়া এবং মধ্যম ঘোনার পাড়ায় ব্রিটিশ আমলের হাসপাতালের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এছাড়া তারা যুদ্ধকালীন সম্ভাব্য রণক্ষেত্র ও সমাধিস্থলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জিপিএস তথ্য সংগ্রহ করে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে জাপান সরকার একটি বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় ২০২৪ সালে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে ২৩ জন এবং ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে ১৮ জন জাপানি সৈন্যের দেহাবশেষ জাপানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ ও স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় অনুসন্ধান চালিয়েছে জাপানি প্রতিনিধি দল। অভিযানে উখিয়ায় পাঁচটি পুরনো বুলেট পাওয়া গেছে।

0 Comments