রাজধানীর মগবাজারের মানসী আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে লাইজু নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সবুজ কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত লাইজু হাজারীবাগ এলাকায় স্বামী এনামুল ও তিন বছরের কন্যাসন্তান মিথিলার সাথে বসবাস করতেন।
তদন্তে জানা যায়, চরম আর্থিক অনটনের শিকার হয়ে লাইজু পুনরায় এই পথে পা বাড়িয়েছিলেন। তার স্বামী এনামুল গত মাসে চুরির অপবাদে গ্যারেজের চাকরি হারান এবং লাইজুর পূর্বের কর্মস্থল গার্মেন্টসটিও অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ হয়ে যায়। চার মাসের ঘর ভাড়া বাকি এবং সন্তানের অসুস্থতার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল পরিবারটি।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ফারুক নামের এক ব্যক্তি। পেশায় চাইনিজ রেস্তোরাঁর ওয়েটার ফারুক তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিলকিসের প্রসবকালীন খরচের জন্য জমানো টাকা বাঁচাতে গিয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটান। হোটেলের কক্ষে পাওনা টাকা নিয়ে লাইজুর সাথে বিবাদের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ফারুক। ঘটনার পরপরই তিনি বাসায় ফিরে ব্যথায় কাতর স্ত্রীকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মগবাজারের আবাসিক হোটেলে নারী খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভাবের তাড়নায় বিপথে যাওয়া লাইজুকে হত্যা করেন ফারুক নামের এক ব্যক্তি। নিজের সন্তানের প্রসবের খরচ বাঁচাতে গিয়েই এই নৃশংস পথ বেছে নেন তিনি।

0 Comments