কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বিপুল বর্জ্য এখন স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিপুল পরিমাণ মানববর্জ্য, প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি আবর্জনা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে স্থানীয় কৃষিজমি, খাল-নালা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে এই অঞ্চল ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ে পড়তে পারে।
উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন কয়েকশ টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পে বর্ষাকালে টয়লেটের বর্জ্য নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে জলাধার দূষিত করছে। রাজাপালংয়ের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন জানান, বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপে স্থানীয়দের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং অনেক এলাকায় পানি দূষণ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন বলেন, ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে পাহাড়, বন ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশবিদদের মতে, ক্যাম্পে স্থাপিত অস্থায়ী ল্যাট্রিন ও সেপটিক পিটগুলো দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের আশঙ্কা তৈরি করছে। কুতুপালং এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী হোসেন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পের বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে জমির উর্বরতা নষ্ট করে দিচ্ছে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে প্রায় ৮ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে তারা বন রক্ষায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। ফিকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ ও স্থানীয় জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন এই সংকটের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপুল বর্জ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বনভূমি ও কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। দ্রুত টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি।

0 Comments