মৃত্যু কোনো কাল্পনিক গল্প বা দূরবর্তী সম্ভাবনা নয়, বরং এটি এক অনিবার্য বাস্তবতা যা প্রতিটি মানুষের দিকে প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছে। লেখক ও গবেষক রায়হান আল ইমরান জানান, প্রতিটি মুমিনের উচিত মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা। কারণ এই চিন্তা কেবল আখেরাতের প্রস্তুতিই নয়, বরং দুনিয়ার জীবনকেও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তোলে। সাধারণত মানুষ এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করে যেন সে চিরকাল বেঁচে থাকবে, যার ফলে সে অনিবার্য এই সত্যকে ভুলে যায়।
গবেষক রায়হান আল ইমরান মৃত্যুকে স্মরণের পাঁচটি বিশেষ উপকারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, এটি মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে। পবিত্র কুরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এই চেতনা মানুষকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাস থেকে সরিয়ে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, এটি দুনিয়ার মোহ ভেঙে দেয়। রাসুল (সা.) মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মানুষকে আখিরাতমুখী করে তোলে।
তৃতীয়ত, মৃত্যুর স্মরণ সময়ের সঠিক মূল্য উপলব্ধি করতে শেখায়। তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.)-এর মতে, মানুষের জীবন হলো কয়েকটি দিনের সমষ্টি, যার প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে জীবনের একটি অংশও শেষ হয়ে যায়। চতুর্থত, এটি মানুষের অন্তর থেকে অহংকার দূর করে এবং তাকে বিনয়ী হতে শেখায়। সবশেষে, মৃত্যুকে স্মরণ করার মাধ্যমে একজন মুমিন আখেরাতের প্রস্তুতির দিকে ধাবিত হয়। রাসুল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, সেই ব্যক্তিই প্রকৃত বুদ্ধিমান যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে।
মৃত্যু এক অনিবার্য বাস্তবতা। দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ এবং জীবনকে অর্থবহ করতে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন গবেষক রায়হান আল ইমরান।

0 Comments