লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে ইরান। তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হলেই কেবল এই আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটবে। তিনি দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলিদের সরে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এদিকে, হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত না থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও লেবানন থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা ব্যক্ত করলেও গাজা ও উত্তর ইসরায়েলসহ বিভিন্ন প্রান্তে লড়াই থামছে না। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট তীব্র হতে পারে। ইরানের সংসদ সদস্য হামিদ-রেজা হাজি বাবায়ি হরমুজ প্রণালিকে ইরানের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
গত মার্চের শুরুতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে এই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তেহরানকে সমর্থন দিতেই তারা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে দুটি হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে তাদের বিমান হামলা জোরদার করেছে।
লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তিচুক্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহও মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

0 Comments