যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ক্রমশ বেশি মাত্রায় যুক্ত হচ্ছেন। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও শান্তি ও যুদ্ধের দোলাচলে রয়েছে পুরো অঞ্চল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে বড় ধরনের বোমাবাজি শুরু হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাহরাইনের বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতে হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অবশ্য দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে ছোড়া বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝপথেই ধ্বংস করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য এই অঞ্চলের যেসব মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকে ইরান তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না ওয়াশিংটন।
শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের নৌবাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত ও আলোচনায় যুক্ত। শান্তি ও যুদ্ধের দোলাচলে থাকা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির বিস্তারিত জানুন।

0 Comments