শুধুমাত্র নামের মিলের ভিত্তিতে এক যুবককে মামলার আসামি করার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। তারা তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নিলয় পারভেজ রুবেল অভিযোগ করেন, নির্দোষ হয়েও তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতে তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে এবং এখনও আতঙ্কে রয়েছে। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্তে সত্য প্রকাশ পেলেও সমাজের মানুষ কি তা বুঝবে?” তার দাবি, প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন ভোগান্তির শিকার না হয়, সে জন্য দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিলয় পারভেজ রুবেল ও পারভেজ হাওলাদার সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি। শুধু ‘পারভেজ’ নামের অংশ মিল থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দুই ব্যক্তির পরিবার, ঠিকানা ও বয়সের কোনো মিল নেই।
ভুক্তভোগীর বন্ধু ব্যবসায়ী হাসান বলেন, “যেখানে দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে কিভাবে একজনকে আরেকজন হিসেবে আসামি করা হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।” তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনা পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এতে নিশ্চিত হয়, নামের একটি অংশ ছাড়া মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নিলয় পারভেজ রুবেলের অন্য কোনো তথ্যের মিল নেই।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নম্বর ৪১/২০২২) রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই শহিদুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, পারভেজ হাওলাদার ও নিলয় পারভেজ রুবেল একই ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এখন আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
0 Comments