ময়মনসিংহের গৌরীপুর জংশন এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। যাত্রীদের বিশ্রামাগার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে, পুরো স্টেশনজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। রেললাইনের মাঝেও স্তুপাকারে জমে আছে আবর্জনা। দুর্গন্ধে স্টেশনে প্রবেশ করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, যাত্রীদের অনেক সময় মল-মূত্র মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের ভেতরে এক ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আবুবক্কর নিজের মতো করে ময়লা পরিষ্কার করছেন। গান গাইতে গাইতে তিনি রেললাইনে পড়ে থাকা আবর্জনা তুলে ফেলছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪-৫ মাস ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন। তার বাড়ি উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর গ্রামে। শাহবাজপুর গ্রামের আব্দুর রউফ দুদু বলেন, আবুবক্কর নিজের খেয়াল-খুশিমতো চলেন, তবে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন ও আশপাশে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছেন।
স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম জানান, জংশনে ঝাড়ুদার-সুইপার পদের ছয়জনের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন কর্মরত আছেন—শিউলী রানী পাল। তার একার পক্ষে পুরো স্টেশন পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, স্টেশনের একাধিক দোকানদার ও যাত্রী অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে খুব একটা কাজে দেখা যায় না। বরং ভবঘুরে কয়েকজনই নিজের উদ্যোগে কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করছেন।
স্টেশনের দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীদের বিশ্রামাগার এখন কার্যত আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রথম শ্রেণি ও সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগারের সামনেও জমে আছে ময়লা। রেললাইনের পাশে দোকানগুলোর আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, আর পুরাতন ভবনের পেছনের বাথরুমের মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ছে প্লাটফরমে। এসব মাড়িয়েই যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিউলী রানী পাল বলেন, তাকে মূলত পোর্টার পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও চুক্তিভিত্তিকভাবে ঝাড়ুদারের কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শুরুতে দু’জন থাকলেও এখন একাই আছেন এবং মূলত অফিস কক্ষ পরিষ্কার রাখার কাজ করছেন। প্লাটফরম বা বাইরের অংশ পরিষ্কার করা তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
0 Comments