বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স দুই বছরের কম। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে হামে মৃত্যুর এই হার সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু ২০২৬ সালের মাত্র দুই মাসেই সেই সংখ্যা ১৫ গুণ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার তীব্র সংকটের কারণে টিকাদানের হার কমে যায়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল করায় সংক্রামক রোগ প্রতিরোধসহ ৩৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০০০ সালে গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে হামে মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা শিশুদের জীবনকে পুনরায় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে গত দুই মাসে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টিকা সংকট ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র: Prothom Alo
0 Comments