স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত আকর্ষণীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা দ্রুত আইনে রূপান্তর করে বাস্তবায়ন করা গেলে তাইওয়ানের মতো সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্পবিপ্লব ঘটানো এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নীতিমালার ধীরগতি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে বস্ত্র খাতের বাইরে অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে নানা শর্ত ও দীর্ঘসূত্রতা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে শিল্প-বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে অভিজ্ঞ অংশীজন ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত সুপারিশ তৈরি এবং তা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সরকারি তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং বিনিয়োগ সহায়ক নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশই পাল্টে দিতে পারে দেশের চিত্র।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments