সিবি ডেক্স: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করা কবির হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের অবসান ঘটেছে। এআই-নির্ভর ছবি ও আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ‘অপ্রকৃত কৃষক’ দাবি করা হলেও সরকারি তদন্ত ও স্থানীয়দের বক্তব্যে তিনি একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষকের সঙ্গে তিনিও কার্ড গ্রহণ করেন এবং কৃষকদের পক্ষে সাবলীল বক্তব্য রাখেন। এরপরই তার বিত্তশালী জীবনের কিছু এআই জেনারেটেড ছবি ভাইরাল করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালায় একটি মহল।
বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) কবির হোসেনের বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী কবির হোসেন একজন যোগ্য প্রান্তিক কৃষক। তিনি মূলত ১৩ শতাংশ নিজস্ব জমিতে এবং অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। এছাড়া বাড়িতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করায় তার পোশাক ও বাচনভঙ্গি নিয়ে সাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
কবির হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, কৃষিকাজই তার মূল পেশা এবং এআই ছবি পোস্ট করা বা শুদ্ধভাবে কথা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরাও তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের সম্মান জানাতে শুরু হওয়া এই পাইলটিং কার্যক্রমকে বিতর্কিত না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
0 Comments