শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্ক সহ সব ক্ষেত্রেই রয়েছে চরম অবহেলা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামু সদর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই গ্রামে পৌঁছাতে হলে ঈদগাঁও হয়ে ঈদগড় দক্ষিণ করলিয়ামুরা এলাকা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হয়।
পথে দেখা মেলে গভীর বনাঞ্চল, যেখানে রয়েছে বন্য হাতি, বানর, হরিণ, এমনকি বড় বড় সাপের বিচরণ। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন গ্রামের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়।
গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সীমিত কিছু অবকাঠামো—একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। তবে নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই অধিকাংশ শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। যারা আগ্রহী, তাদের দূরবর্তী ঈদগড় বা বাইশারী এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র আরও ভয়াবহ। গ্রামে নেই কোনো সরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগীদের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দূরের এলাকায় যেতে হয়, যা অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের অভাবে গ্রামটি এখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তির শেষ নেই। সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম অন্ধকারে ডুবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি এই গ্রামে আসেননি। তাদের সমস্যার কথা কেউ শোনেনি, দেখেনি তাদের দুর্দশা। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ, একটি সরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং একটি চলাচলযোগ্য সড়কের দাবি জানিয়ে আসছেন।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, আমরা এই দেশের নাগরিক হয়েও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। আমরা চাই সরকার আমাদের দিকে একটু নজর দিক।
ব্যাঙডেবা গ্রামের এই করুণ বাস্তবতা যেন দেশের উন্নয়নের চিত্রের এক ভিন্ন প্রতিচ্ছবি। যেখানে শহর ও উন্নত অঞ্চলে উন্নয়নের জোয়ার, সেখানে এই ধরনের প্রত্যন্ত অঞ্চল এখনও পড়ে আছে অবহেলার অন্ধকারে। স্থানীয়দের প্রাণের দাবি—দ্রুত তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
0 Comments