সিবি ডেক্স: কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে পূর্বে এমআর ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সেলিম জানান, জোয়ারিয়ানালা, মিঠাছড়ি ও গর্জনিয়া ইউনিয়নসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়ছে। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৩৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শয্যার হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪২ জন। শয্যা সংকটে এক বিছানায় তিন থেকে চারজন করে শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়স এক বছরের নিচে। শিশু বিভাগের ইনচার্জ শহিদুল আলম জানান, মৃত শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া ছিল।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির বলেন, যেসব এলাকায় টিকাদানের হার ৮৫ শতাংশের নিচে থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একজন আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।
সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে মহেশখালী ও রামুতে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
0 Comments