বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের মিছিল থামছেই না। বড় দুই টেক জায়ান্ট মেটা ও মাইক্রোসফট গত ২৩ এপ্রিল মোট ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে কোম্পানিগুলো এখন মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে ফেলছে। লে-অফস ডট এফওয়াইআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তিকর্মী কাজ হারিয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখে। মেটা জানিয়েছে, তারা তাদের মোট কর্মী বাহিনীর ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে ৫২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফট তাদের কর্মীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ দিচ্ছে, যার ফলে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন কাজ হারাতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের বাইরেও এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড নাইকি তাদের প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া স্ন্যাপ ১৬ শতাংশ এবং সেলসফোর্স ৪ হাজার কর্মীকে বিদায় করে দিয়েছে। কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামো তৈরিতে বছরে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করলেও সেই খরচ সামলাতে সাধারণ কর্মী ছাঁটাই করে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে প্রযুক্তিকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কমছে এবং বাজারে অস্থিরতা থাকায় অনেকে বর্তমান চাকরি ছাড়তেও ভয় পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই হয়তো নতুন কাজ তৈরি করবে, তবে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই। মেটা ও মাইক্রোসফটের ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় আতঙ্কিত সাধারণ কর্মীরা। এআই বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে কর্মসংস্থানের চিত্র।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments