ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে সামরিক আগ্রাসন এবং সহিংসতার মাধ্যমে ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া গেলেও ভবিষ্যতে তা ‘টাইম বোমা’র মতো বিস্ফোরিত হতে পারে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাশিয়ার একটি পাবলিক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ল্যাভরভ বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের অভাব গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
তার মতে, বর্তমানে অনেক পক্ষ জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক সিদ্ধান্তগুলোকে উপেক্ষা করতে চাইছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আড়ালে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না।
তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও এতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। বরং ভবিষ্যতে এটি আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি চলমান অবিচার এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা আরব বিশ্বে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই সংকটের ন্যায়সঙ্গত সমাধান এখন সময়ের দাবি।
তিনি উল্লেখ করেন, আরব বিশ্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকাকে সম্ভাব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ এ অঞ্চলকে দখলকৃত এলাকা হিসেবে গণ্য করে এবং সেখানে ইসরাইলি বসতি নির্মাণকে অবৈধ বলে মনে করে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ২ হাজার ৪০০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গোলাবর্ষণ, গুলি, সামরিক অভিযান এবং সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনা রয়েছে।
0 Comments