Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে কূটনীতিতে সৌদির পূর্ণ সমর্থন

সিবি ডেক্স: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার বিষয়েও সৌদি পক্ষকে অবহিত করা হয়।

ফোনালাপে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তবে তার অভিযোগ, মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত ও অন্যায্য দাবি এবং অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিনিদের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার ঘাটতি শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরবর্তী প্রায় ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনায় ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিসহ ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয় এবং প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে যায়।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলমান থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার অগ্রগতির অভাব পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, সৌদি আরবসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতায় এই সংকটের সমাধান হয় কি না।

Post a Comment

0 Comments