Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

মনোনয়ন ঘিরে তোপের মুখে কনকচাঁপা, ফেসবুকে ক্ষোভের প্রকাশ

সিবি ডেক্স: নারী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। শনিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন থেকে তিনি এ ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় নেত্রীদের তোপের মুখে পড়েন এই সংগীতশিল্পী।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন কনকচাঁপা। তবে সে সময় দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এবার তিনি নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

সেই পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন, বছরজুড়ে নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু কোনো কারণে দল তাকে মনোনীত করেনি। এতে কষ্ট পেলেও তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কে কী ভাবল, তাতে তার কিছু আসে-যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রতি তার আনুগত্য শতভাগ। কিন্তু অযথা, অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীনপ্রচেষ্টা আসলে দুরভিসন্ধিমূলক। তার ভাষ্য, যারা জাতীয় নির্বাচনে চাননি তিনি মনোনয়ন পান, তারা এখনো সেই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

পোস্টে কনকচাঁপা বলেন, বিগত সরকারের আমলে দলের নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। কেউ জেল খেটেছেন, কেউ মামলা মোকাবিলা করেছেন। আর তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। একজন শিল্পী গান গাইতে না পারলে তার আর কী-ই বা বাকি থাকে—এমন আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কোথাও তিনি গান গাইতে পারেননি। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল-লতাপাতার ছবি আঁকা, পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছেন। সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যদের ত্যাগকে তিনি মূল্যায়ন করেন, কিন্তু নিজের ক্যারিয়ার হারানো ও নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কি কোনো স্বীকৃতি তিনি পেতে পারেন না।

রাজনৈতিক যাত্রার প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখন সংরক্ষিত নারী আসনের পরিবর্তে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবু নেত্রীর কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে তিনি কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, এর ফল হিসেবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মনোনয়ন পান। সেই যাত্রা সহজ ছিল না, ছিল বিপৎসংকুল ও তার জন্য অত্যন্ত দুরূহ। নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি রাজনৈতিক মনের মানুষ, তবে পেশাদার রাজনীতিবিদ নন বলেও উল্লেখ করেন। সে কারণেই পুরো কাজটি তার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল, তবু নেত্রীর নির্দেশ তিনি পালন করেছেন।

কনকচাঁপা বলেন, দলের যে কারও মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার আছে। নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রয়েছে। একইভাবে দলের নীতিনির্ধারকদেরও যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়ার এখতিয়ার আছে। ফলে মনোনয়ন ফরম কেনার দুয়ার সবার জন্যই খোলা।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এর ফলে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হলে তা খুবই দুঃখজনক হবে।

কনকচাঁপার বক্তব্যে উঠে এসেছে, দলের ভেতরের একটি অংশ তার মনোনয়নপ্রাপ্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারীনেত্রীদের একাংশ তার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছেন? যারা আন্দোলনে ছিলেন, ১৭ বছর দল করেছেন, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?

তিনি আরও বলেন, বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে তারা ছিলেন। ১৭ বার জেলে গেছেন। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছেন। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজপথে লড়াই করা নেত্রীদেরই মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় আরও কয়েকজন নেত্রী একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দলে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের উপেক্ষা করে হঠাৎ করে আগত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Post a Comment

0 Comments