গণনা শুরু, কক্সবাজারের চার আসনেই এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল পেতে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

চকরিয়া–পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার–১ আসনটি এবার জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রার্থিতা এই আসনকে আলোচনায় রাখে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। গণনা শুরুর পর গ্রামাঞ্চলের একাধিক কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দলীয় এজেন্টদের মতে, শেষ সপ্তাহের প্রচারণা ও গণসংযোগ ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মহেশখালী–কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার–২ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ ও জামায়াতের ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের মধ্যে। দ্বীপাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সংগঠনের তৎপরতা ও কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সদর, রামু ও ঈদগাঁও নিয়ে গঠিত কক্সবাজার–৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ছিল বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল ও জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুরের মধ্যে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের গণনায় বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণ ভোটারদের তুলনামূলক বেশি উপস্থিতি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

উখিয়া–টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার–৪ আসনটি বরাবরই স্পর্শকাতর ও আলোচিত। রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও মানবপাচার—এই সব ইস্যু এই আসনকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির নুর আহমদ আনোয়ারী। সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি কেন্দ্রের প্রাথমিক গণনায় বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় এজেন্টরা জানিয়েছেন। তবে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতের নেতাকর্মীরাও অনেক কেন্দ্রে সক্রিয় ছিলেন এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে গণনা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি উচ্ছ্বাস ও সক্রিয়তা দেখা গেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবধান খুবই কম হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সামগ্রিক চিত্র তাদের পক্ষেই ঝুঁকে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো সব কেন্দ্রের গণনা শেষ হয়নি। সব কেন্দ্রের ফল একত্র হওয়ার পরই চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে। তবে প্রাথমিক যে ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments