নির্বাচন বানচালে ভারতের নীলনকশা, বড় হামলার আশঙ্কায় গোয়েন্দা সতর্কতা

সিবি ডেক্স: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় নীলনকশা বাস্তবায়নের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্র। বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য নির্বাচন বানচাল করা, রাজনৈতিক সংঘাতকে রক্তক্ষয়ী রূপ দেওয়া এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করা।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই নীলনকশার সঙ্গে সীমান্ত পারের অপশক্তি, পলাতক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব, ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে একটি ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে টার্গেট কিলিং, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি, রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা এবং অনলাইনে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ছোট সংঘর্ষকে বড় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ করে অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, দেশের অন্তত ৮৭টি আসনে সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকার একাধিক আসনও অন্তর্ভুক্ত। এ প্রেক্ষাপটে উভয় দলকে সংযমী ও সতর্কভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, অতীতে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু পলাতক সদস্যকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। জেএমবির ১০৩ জন পলাতক সদস্যকে ঘিরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ঘাতক অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় যশোর, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডসহ নয় লাখের বেশি সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি, ড্রোন নজরদারি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সংযম, জনসচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে যে কোনো নাশকতার নীলনকশা ব্যর্থ করা সম্ভব।

Post a Comment

0 Comments