জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ ৭১টি ইউনিয়নে এবার ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতিমধ্যে ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি কাঁচা সুপারি উৎপাদিত হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্রি শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ৯৯ শতাংশ গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ শেষ হয়েছে।
উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক চাষাবাদের ফলে ফলন বেড়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার বলেন, প্রতিটি গাছে ৪৭০-৫০০টি সুপারি ধরেছে। খুচরা বাজারে মাঝারি সুপারি ৮-১০ টাকা ও বড় সুপারি ১০-১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা সুপারি শুকিয়ে ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শুকনা সুপারি পাওয়া যাবে। পাইকারিতে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা হিসেবে বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা। এতে ৪০ হাজার প্রান্তিক চাষিসহ দেড় লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে মৌসুমে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাষি দেলোয়ার হোসেন ২ কানি জমির ৫১৭টি গাছ থেকে সাত লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। একই এলাকায় মোহাম্মদ হারুণ ও আবুল কাশেম পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন বলে জানান। চাষিরা বলেন, মিয়ানমার থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় সুপারির চাহিদা বেড়েছে।
জেলায় ১৪০টির বেশি সুপারি বাজার বসে। উখিয়ার সোনারপাড়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন ৬০-৭০ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি হয়, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। গত মৌসুমে ৮ হাজার ৬৪৫ একরে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিল, মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এবার প্রতি একরে উৎপাদন বেড়ে ১৯ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
0 Comments