বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মৌলিক শর্ত—নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতা—এর কোনোটিই বর্তমানে বিদ্যমান নেই। বরং রাখাইনে চলমান সংঘাত, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং আরাকান আর্মি-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে—এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন আয়োজন করলেও তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। এতে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রাখাইনে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটতে পারে, যার চাপ সরাসরি বাংলাদেশ-এর ওপর পড়বে। সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, চোরাচালান ও মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে, যা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপ দিচ্ছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট এখন দ্বিপক্ষীয় পর্যায় ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছে। চীন মূলত অর্থনৈতিক করিডোর ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ভারত নিরাপত্তা ও সংযোগ প্রকল্পে দ্বৈত কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে সমন্বিত আন্তর্জাতিক চাপ গড়ে ওঠেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ৯ লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কুতুপালং শরণার্থী শিবির বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া ক্যাম্প এলাকাকে ঘিরে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান বাস্তবতায় স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিকট ভবিষ্যতে সম্ভব নয় বলেই মনে করছে সংস্থাটি।
0 Comments