গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ৯ ইস্ট বেঙ্গল, কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানে ১৪.৫ ও ১২.৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুটি ব্যবহারযোগ্য কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মারুফ হাসান তাহসিন (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হাসান তাহসিন স্বীকার করেন, পলাতক অজুফা বেগম তাকে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাংবাদিক ফরহাদ (২৬)-কে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ওই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
অভিযানের পর থেকেই অজুফা বেগম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অজুফা বেগম তার ভাড়া বাসায় ফাতু নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে ব্যবহার করে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করতেন এবং সেখানে রাতভর মাদক বেচাকেনা চলত। এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই বাসাটি রাতের অন্ধকারে মাদকপল্লিতে পরিণত হতো, ফলে যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছিল।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অজুফা বেগমের প্রবাসী স্বামী ইয়াকুব আলী টেকনাফ থেকে মাদক এনে দক্ষিণ ডিককুলে সরবরাহ করতেন এবং পুরো চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের যোগসাজশে এলাকায় মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।
স্থানীয়দের দাবি, অজুফা বেগম নীরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা, দখলবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন এবং এলাকায় নীরব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পর তার এলাকা ত্যাগে দক্ষিণ ডিককুলে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে প্রশাসন মাদক চক্র ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
0 Comments