সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন। কেবিনেট বৈঠক শেষে বিকেলে তিনি মন্ত্রণালয়ে আসেন। যোগদান শেষে সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সভায় বিশাল ব্যানার টানানো দেখে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং এ ধরনের কাজ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি ব্যানারটি নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যানারটি সরিয়ে ফেলা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, সালাহউদ্দিন আহমদ শুধু ব্যানার নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, তিনি গার্ড অব অনারও নিতে চাননি। পরে অনুরোধ করে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এমনকি ফুল দিয়ে বরণ করার চেষ্টাতেও তিনি বাধা দেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, স্বল্প সময়ের সভায় নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে অসাধু কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশাল ব্যানার টানিয়ে মন্ত্রীকে খুশি করার চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনে। উল্লেখ্য, আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ব্যানার টানানো পছন্দ করতেন বলে তা রাখা হতো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বরদাশত করা হবে না এবং বিভিন্ন বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের মব কালচার গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ে মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা হবে।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
0 Comments