নির্বাচন ও রমজানে স্থবির কক্সবাজারের পর্যটন খাত

সিবি ডেক্স: জাতীয় নির্বাচনের সময় একপ্রকার বন্ধই ছিল ব্যবসা। এরপর শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। ফলে ভর মৌসুমেও মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে মারাত্মক লোকসান হয়েছে। তবে ঈদের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় আছেন তারা।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনের মৌসুমেই এবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকালে অস্থিতিশীল পরিবেশের আশঙ্কায় পর্যটকরা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকেন। সদ্য সম্পন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকেই স্থবির হয়ে পড়ে পর্যটন শিল্প। নির্বাচনের পর শুরু হয় রমজান মাস, ফলে পর্যটকের উপস্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

কক্সবাজার হোটেল–মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভর মৌসুমেই পর্যটন খাতে স্থবিরতা দেখা দেয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন পুরোপুরি স্থবির ছিল।

তিনি বলেন, তফশীল ঘোষণার পর থেকে ৫ শতাধিক হোটেল–মোটেলে ৩০ শতাংশের কম বুকিং ছিল। ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বুকিং নেমে আসে ১০ শতাংশেরও নিচে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন হোটেল মালিকরা। রমজানে পর্যটক সংখ্যা আরও কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ঈদের পরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পর্যটক কমে যাওয়ায় শুধু হোটেল–মোটেল নয়, রেস্টুরেন্ট, ঝিনুক, শুটকি ও বার্মিজ পণ্যসহ বিভিন্ন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বৃহত্তর সুগন্ধা বিচ ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা কোনোভাবে লোকসান সামাল দিলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শোচনীয় অবস্থায় রয়েছেন। তবে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, রমজানেও কিছু পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন এবং জনশূন্য সমুদ্র সৈকতের ভিন্ন পরিবেশ উপভোগ করছেন। পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ের মতোই ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments