সিবি ডেক্স: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা জানান তিনি। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানানো হবে যেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই ভোটগ্রহণের আয়োজন সম্পন্ন হয়। এ নির্বাচন হবে স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ইউনূস।
ভাষণে তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চলেছে সরকার। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে গত ১৫ বছর নাগরিকেরা ভোট দিতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে আমরা আমাদের বকেয়া আনন্দসহ মহা-আনন্দে ভোট দিতে চাই।’
নির্বাচন যেন ঈদের আনন্দের মতো হয়, সেই বার্তাও দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আহ্বান জানান, সবাই পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তুলবেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরাজিত অপশক্তি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাবে। জনগণকে সচেতন থেকে এই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। নির্বাচন বিষয়ে নাগরিকদের পরামর্শ গ্রহণে শিগগিরই একটি অ্যাপ চালু হবে বলেও জানান ইউনূস।
ভোটের প্রস্তুতিতে আগামীকাল থেকেই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, ইশতেহার তৈরিতে তরুণ ও নারীদের প্রাধান্য দিতে হবে।
২০১৫ সালের পর দেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয় এবং এই প্রথমবার নির্দিষ্ট সময়সূচি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলো।
0 Comments