এই উদ্যোগের আওতায় প্লাস্টিক জমা দিলে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক মানুষ। এভাবে ১০ হাজার পরিবারকে পৌঁছে দেওয়া হবে চাল, ডাল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। শুধু তাই নয়, তিনটি ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’-এ পর্যটকরা জমা দেওয়া প্লাস্টিকের বিনিময়ে পাচ্ছেন আকর্ষণীয় উপহারও।
রোববার সুগন্ধা পয়েন্টে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম, পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্যোগে একদিকে সমুদ্র সৈকত হচ্ছে প্লাস্টিকমুক্ত, অন্যদিকে খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন অসচ্ছল পরিবার। আবুল কাশেম নামে এক বাসিন্দা বলেন, "চাল-ডাল ফ্রি পাওয়ার মতো জিনিস এই সময়ে খুবই দরকারি।" আয়েশা বেগম বলেন, "৩ টাকা দামে ডিম, বিস্কুট, চিনি পেয়েছি প্লাস্টিক জমা দিয়ে—এটা অনেক উপকার।"
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫০টি স্পটে হবে ৫০টি ইভেন্ট। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে বিভিন্ন প্রদর্শনী, পোস্টার ও সচেতনতামূলক উপকরণ।
জেলা প্রশাসক বলেন, “প্লাস্টিক এখন এক নম্বর শত্রু। তাই সকলকে নিয়ে এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছি। একদিকে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা, অন্যদিকে স্থানীয়দের মাঝে রিসাইকেল অভ্যাস গড়ে তুলতে চাই।”
২০২৪ সালে এই উদ্যোগে কক্সবাজার উপকূল থেকে ৮৩ মেট্রিক টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি করা হয়েছে ৬২ ফুট উচ্চতার ‘প্লাস্টিক দানব’, যা সীগাল পয়েন্টে পর্যটকদের নজর কেড়েছে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে রূপ দিতেই এই ছয় মাসব্যাপী প্রকল্প।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “প্লাস্টিক শুধু পরিবেশ নয়, আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। এই যুদ্ধে জিততে হলে দরকার জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা এবং একসাথে কাজ করার মানসিকতা।”
0 Comments