কোরীয় উপদ্বীপে জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কোরিয়ার মুক্তি দিবস উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো একটি শুভেচ্ছাবার্তার জবাবে কিম জং উন দুই দেশের সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ন্যায়বিচারের জন্য যৌথ সংগ্রামের ইতিহাস এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুতিন তার বার্তায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক বন্ধন আগামীতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা ও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে। এদিকে, মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়া অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়াকে উসকানি হিসেবে অভিহিত করে আসছে।
উল্লেখ্য, ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ বছর জাপানি শাসনের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা পায় কোরিয়া।
কোরিয়ার মুক্তি দিবসে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন কিম জং উন। পুতিনের শুভেচ্ছাবার্তার জবাবে তিনি বন্ধুত্বের ঐতিহ্য বজায় রাখার প্রত্যয় জানান। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনার প্রস্তাব দিলেও পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান এখনো অনড়।


0 Comments