সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সম্পত্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে লিখে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অসুস্থ স্বামীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে তার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আক্তার। সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম অভিযোগটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুককে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম, ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও মমতাজ বেগম। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার সুযোগে তার সম্পত্তি আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে ভুয়া কর্মকর্তা সাজিয়ে তার কাছে দলিলে সই চাওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী (প্রয়াত) শেলী চৌধুরীকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে পারভীন আক্তার বাধা দিতে গেলে তিনিও মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন আইনজীবী কাওছার আলম। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে ভয় দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টিকে পারিবারিক ঝামেলা হিসেবে উল্লেখ করে আইনিভাবে মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার অভিযোগে তার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।


0 Comments