বাংলাদেশের লোকসংগীতের ইতিহাসে চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের ভাষা এবং সুফিবাদের চেতনাকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন আবদুল গফুর হালী। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দুই হাজারের বেশি গান রচনা ও সুর করেছেন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদ গ্রামে ১৯২৯ সালের ৬ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পীর হাত ধরেই আঞ্চলিক গান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছে।
আবদুল গফুর হালীর সৃষ্টিকর্মে মাইজভাণ্ডারী, মুর্শিদি, মারফতি এবং আঞ্চলিক লোকগানের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। তাঁর গানের সহজ ভাষা ও গভীর আধ্যাত্মিক আবেদন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। গানের পাশাপাশি তিনি ‘গুলবাহার’, ‘নীলমণি’ ও ‘আশেক বন্ধু’র মতো অন্তত ছয়টি জনপ্রিয় লোকনাটক রচনা করেছেন। শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও সঞ্জিত আচার্যের মতো প্রখ্যাত শিল্পীদের কণ্ঠে তাঁর গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হান্স হার্ডার গবেষণা করেছেন এবং জার্মান ভাষায় একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর এই গুণী শিল্পীর জীবনাবসান ঘটলেও তাঁর সৃষ্টি আজও লোকসংগীতের মঞ্চে ও আধ্যাত্মিক আসরে সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও লোকসংস্কৃতির কিংবদন্তি আবদুল গফুর হালীর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ আয়োজন। দুই হাজারের বেশি গানের এই স্রষ্টা সুফিবাদ ও লোকঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।


0 Comments