ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

তীব্র গ্যাস সংকটে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা বন্ধ, বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা

তীব্র গ্যাস সংকটে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা বন্ধ, বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চিনি, গম ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ১২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু এমজিআই নয়, টি কে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপসহ দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানাতেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গত বুধবার থেকে তাদের সব কারখানা একে একে বন্ধ করতে হয়েছে। অন্যদিকে, টি কে গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হায়দার জানিয়েছেন, তাদের ২৮টি কারখানার মধ্যে ২০টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, তারা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন সচল রেখেছেন, যার ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩৮৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও।

সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক জানান, কারখানায় পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকলেও গ্যাসের অভাবে তারা উৎপাদন শুরু করতে পারছেন না। বর্তমানে কোম্পানিগুলো তাদের গুদামে থাকা আগের মজুত দিয়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করছে। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বাজারে যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সংক্ষেপে:
তীব্র গ্যাস সংকটে মেঘনা ও টি কে গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গুদামের মজুত দিয়ে বর্তমানে সরবরাহ চললেও দীর্ঘমেয়াদী সংকটে বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে।
তীব্র গ্যাস সংকটে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা বন্ধ, বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা

0 Comments